ভেনিজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০

ভেনিজুয়েলায় এক শতকেরও বেশি সময়ের মধ্যে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।

Jun 27, 2026 - 05:37
 0  2
ভেনিজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০
×

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী ও বিধ্বংসী জোড়া ভূমিকম্পের আঘাতে নিহতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে ৯২০ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটিতে গত এক শতকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রলয়ংকরী এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধূলিসাৎ হয়ে গেছে হাজার হাজার ঘরবাড়ি ও বহুতল ভবন।

​ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে আজ এই ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনেক এলাকা এখনও সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া লোকজনকে উদ্ধারে ধীরগতির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হাহাকার বাড়ছে।

গুয়াইরা রাজ্যে সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি, জরুরি অবস্থা জারি:

ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের ভাই এবং দেশটির ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ গতকাল শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, সরকারি সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জন হয়েছে। এর আগে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই দুর্যোগে প্রায় ৩ হাজার মানুষের গুরুতর আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছিলেন।

​পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশজুড়ে সর্বাত্মক ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছেন। একই সাথে ক্ষয়ক্ষতির তীব্রতার কারণে রাজধানী কারাকাসের প্রধান প্রবেশদ্বার ‘সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

​ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট গতকাল শুক্রবার ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ‘লা গুয়াইরা স্টেট’ পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, গত বুধবার সন্ধ্যায় পর পর আঘাত হানা ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার এই জোড়া ভূমিকম্পে লা গুয়াইরা রাজ্য সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে রূপ নিয়েছে। তবে আশার কথা হলো, ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক ও বিদেশি উদ্ধারকারী দলগুলো উপদ্রুত এলাকায় পৌঁছাতে শুরু করেছে।

আক্রান্ত ৬৮ লাখ মানুষ, ১০ হাজার মৃত্যুর শঙ্কা:

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই জোড়া ভূমিকম্পের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবে ভেনিজুয়েলার প্রায় ৬৮ লাখ মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যার মধ্যে কেবল রাজধানী কারাকাসেই গৃহহীন ও ঝুঁকিতে পড়েছেন প্রায় ২০ লাখ মানুষ।

​আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের আমেরিকা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক লয়েস পেস বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, “অনবরত আফটার শক (পরবর্তী কম্পন) হতে থাকায় মানুষ এখনো আতঙ্কে তাদের অক্ষত বাড়িতে ফিরতে ভয় পাচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে।”

​এদিকে, এই ভয়াবহ ভূমিকম্প নিয়ে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) একটি অত্যন্ত শঙ্কার পূর্বাভাস দিয়েছে। তাদের গাণিতিক মডেল অনুযায়ী, দুর্গম ও ধসে পড়া ভবনগুলোর সঠিক হিসাব পাওয়া গেলে এই দুর্যোগে চূড়ান্ত নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

চলছে উদ্ধার অভিযান:

চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও স্থানীয় সেনাবাহিনী ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো নিখোঁজ হাজারো মানুষের সন্ধানে রাত-দিন উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে কংক্রিটের স্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারের পাশাপাশি দুর্গত মানুষের মাঝে জরুরি খাদ্য, ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া কয়েক ডজন মানুষকে উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে, যা উদ্ধারকারীদের এই চরম সংকটের মাঝেও কিছুটা স্বস্তি ও কাজের অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।