কে হচ্ছেন ইসলামী আন্দোলনের নতুন মহাসচিব? আজ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মজলিসে শুরা
নির্ধারিত সময়ের ৬ মাস আগেই কমিটি ভেঙে নতুন করে ঢেলে সাজানো হচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে। আজ শনিবারের শুরা বৈঠকে কে হচ্ছেন নতুন মহাসচিব? গাজী আতাউর রহমান নাকি অন্য কেউ? জানুন বিস্তারিত।
দেশের অন্যতম শীর্ষ ইসলামি রাজনৈতিক দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদল ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদে আমূল পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ ‘মহাসচিব’ নিয়ে। আজ শনিবার (২৭ জুন) পীর সাহেব চরমোনাইয়ের নেতৃত্বাধীন দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘মজলিসে শুরা’র জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে নতুন এই নেতৃত্ব বাছাই ও দলের আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশল চূড়ান্ত করা হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-উত্তর পরিস্থিতি এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে মূলত এই সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
ভোটের ব্যবধান ও একক লড়াইয়ের মূল্যায়ন:
চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর ইসলামী আন্দোলনের উদ্যোগে জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য সমমনা দলগুলো নিয়ে ‘১১ দলীয় ঐক্য’ গঠিত হলেও নানা কৌশলগত কারণে দলটি সেই জোটে থাকেনি। পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে লড়াই করে দলটি প্রায় ২২ লাখ (মোট ভোটের ২.৭০ শতাংশ) ভোট পেলেও মাত্র ১টি আসনে জয়লাভ করে।
জনসমর্থন ও প্রাপ্ত ভোটের তুলনায় আসন সংখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় নির্বাচনের পর দলটি কিছুটা নিষ্ক্রিয় ছিল। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতা, নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতার ঘাটতি এবং জনসমর্থনকে সরাসরি ব্যালটে রূপান্তরের দুর্বলতা উঠে এসেছে। তবে প্রায় ৩ শতাংশ ভোটারের এই সমর্থনকে ভবিষ্যৎ রাজনীতির শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে দেখছে চরমোনাইয়ের দল। সেই ভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই নতুন নেতৃত্বকে মাঠে নামাতে নির্ধারিত মেয়াদের ৬ মাস আগেই বর্তমান কমিটি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।
মহাসচিব পদের দৌড়ে এগিয়ে যারা:
দলের বর্তমান মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনূছ আহমদ ২০০৮ সাল থেকে টানা ১৮ বছর অত্যন্ত সততা ও ক্লিন ইমেজের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে শারীরিক অসুস্থতা ও বয়সজনিত কারণে বর্তমান মহাসচিব ইতিপূর্বেও এই পদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার ওজর পেশ করেছিলেন। সেই কথা বিবেচনায় রেখে মাওলানা ইউনূছ আহমদকে উপদেষ্টা পরিষদ বা প্রেসিডিয়ামের মতো সম্মানজনক পদে রাখা হতে পারে।
নতুন মহাসচিব পদের দৌড়ে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছেন বর্তমান সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও দলের দীর্ঘদিনের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। গত কয়েক বছর ধরে দলের নীতি-নির্ধারণী মহলে এবং টকশো ও গণমাধ্যমে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান ছাড়াও মহাসচিব পদের আলোচনায় আছেন আরও দুই যুগ্ম মহাসচিব:
ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম
হাফেজ মাওলানা ফজলে বারী মাসউদ (ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি)
(উল্লেখ্য, অপর যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলম স্থায়ীভাবে দেশের বাইরে চলে যাওয়ায় তিনি খুব একটা আলোচনায় নেই ।)
চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী থেকে মূল রাজনৈতিক দল:
ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতিখার তারিক শনিবারের এই গুরুত্বপূর্ণ শুরা বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে শুরা সদস্যরা বৈঠকে বসেছেন। বৈঠক শেষে বিকেলে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটির তালিকা ও মহাসচিবের নাম ঘোষণা করা হবে।
নেতৃত্বের পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, “দলকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর কাজ অনেক দিন আগে থেকেই শুরু হয়েছিল, এই শুরা বৈঠক তারই অংশ। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে দলে নতুন গতি আসবে।


