বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১৫% কমল: সব কৃতিত্ব নিজের বলে দাবি ডোনাল্ড ট্রাম্পের
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১৫ শতাংশ কমে যাওয়ার পুরো কৃতিত্ব নিজের বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সাথে তাঁর প্রশাসনের নীতি ও চুক্তির ফলেই তেলের বাজার নিম্নমুখী বলে জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নাটকীয়ভাবে কমে যাওয়ার পুরো কৃতিত্ব নিজের বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সাথে ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও নীতিগত সিদ্ধান্তের ফলেই বৈশ্বিক তেলের বাজার এখন নিম্নমুখী বলে আজ সোমবার এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তিনি।
নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লেখেন, “ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগের তুলনায় বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অনেক কম।” এর পরপরই পৃথক আরেকটি পোস্টে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে যোগ করেন, “জ্বালানি তেলের দাম খুব দ্রুতই আরও নিচের দিকে নেমে আসছে।” একই সাথে খুচরা পর্যায়ে সাধারণ ক্রেতাদের যেন ঠকানো না হয়, সেদিকেও নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমার এই ইতিবাচক পরিস্থিতির পাশাপাশি নিজের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার গ্রাফ নিয়েও কথা বলেছেন ট্রাম্প। তিনি গভীর সন্তুষ্টি প্রকাশ করে দাবি করেন, এই মুহূর্তে মার্কিন জনগণের মাঝে তাঁর জনসমর্থন বা পোল রেটিং (Poll Rating) ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
ক্রুড ওয়েলের বর্তমান বাজারদর:
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের সর্বশেষ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আজ সোমবার (২৯ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের (Brent Crude) প্রতি ব্যারেল তেল বিক্রি হয়েছে ৭৩ মার্কিন ডলারে। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (WTI) দাম আরও কমে দাঁড়িয়েছে ব্যারেল প্রতি মাত্র ৬৯ ডলারে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধাবস্থা শুরু হওয়ার আগের পরিস্থিতির তুলনায় তেলের এই বর্তমান বাজারদর প্রায় ১৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এই বড় পতন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এবং আমদানিকারক দেশগুলোর অর্থনীতিতে বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সাথে যে মধ্যস্থতা ও আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহের পথ সুগম করার নীতিগত অবস্থান নিয়েছে, বাজারে তারই সরাসরি প্রভাব পড়েছে। তবে ট্রাম্পের এই একক কৃতিত্বের দাবিকে তাঁর রাজনৈতিক ইমেজ বাড়ানোর এবং ভোটারদের স্বস্তি দেওয়ার একটি বড় কৌশল হিসেবেও দেখছেন অনেকে।


