কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো ৫৬ ফুট লম্বা বিশালাকার মৃত তিমি

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে প্রায় ৫৬ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি বিশালাকার মৃত বেলিন তিমি ভেসে এসেছে। দুর্গন্ধ ছড়ানোয় তিমিটিকে দ্রুত মাটিচাপা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

Jun 29, 2026 - 22:09
 0  3
কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো ৫৬ ফুট লম্বা বিশালাকার মৃত তিমি
×

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে প্রায় ৫৬ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি বিশালাকার মৃত ‘বেলিন তিমি’ (Baleen Whale) ভেসে এসেছে।

​আজ সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে সৈকতের কাউয়ার চর বসুধা আইল্যান্ড-সংলগ্ন এলাকায় তিমিটি প্রথম শনাক্ত করেন উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) সদস্যরা। সৈকতে বিশালাকার তিমি ভেসে আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে তা দেখতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় জমে।

​এক সপ্তাহ আগে মৃত্যুর ধারণা:

বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের (বিবিসিএফ) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপরার আহ্বায়ক কেএম বাচ্চু জানান, সকালে স্থানীয় ট্যুর গাইড তরিকুল ইসলাম সৈকতে তিমিটি পড়ে থাকতে দেখে পরিবেশ কর্মীদের অবহিত করেন। পরে বিষয়টি দ্রুত বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়।

​পরিবেশ কর্মীরা জানান, মৃত তিমিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৬ ফুট এবং প্রস্থ ১৬ ফুট। তিমিটির শরীর থেকে চামড়া খসে পড়ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গভীর সমুদ্রে প্রায় এক সপ্তাহ আগে প্রাণীটির মৃত্যু হয়েছে এবং জোয়ারের তোড়ে তা উপকূলে ভেসে এসেছে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি।

কুয়াকাটায় বারবার কেন মরছে তিমি?

উপকূল ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “কুয়াকাটা উপকূলে তিমি মৃত্যুর ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৮, ২০২২ এবং চলতি বছরের গত ৩ জুনও কুয়াকাটা সৈকতে একই প্রজাতির বিশালাকার মৃত তিমি ভেসে এসেছিল। সমুদ্রে বারবার সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী, ডলফিন ও কচ্ছপের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটনে জরুরি বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজন।”

​পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক রাজীব সরকার বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য দেখে এটি 'বেলিন তিমি' বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “সমুদ্রের পরিবেশগত বিপর্যয়, প্লাস্টিক দূষণ, খাদ্য সংকট, কোনো মরণব্যাধি, বড় কোনো বাণিজ্যিক জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষ কিংবা সমুদ্রস্রোতের আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী মারা যেতে পারে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।”

​তিনি আরও যোগ করেন, এই তিমির নমুনা সংগ্রহ ও ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে প্রজাতি নিশ্চিত করা উচিত। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও গবেষণার স্বার্থে এর কঙ্কালটি বৈজ্ঞানিক উপায়ে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।

মাটিচাপা দেওয়ার নির্দেশ প্রশাসনের:

তিমিটি পচে গিয়ে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ইয়াসীন সাদেক জানান, “তিমিটি ইতিমধ্যে পচাগলা অবস্থায় চলে গেছে। পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে বন বিভাগ এবং কুয়াকাটা পৌরসভার সহযোগিতায় দ্রুত তিমিটিকে সৈকতের বালুচরে গভীর গর্ত করে মাটিচাপা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”