‘আমি হারিনি, পদত্যাগ করব না’: মমতার অনড় অবস্থানে পশ্চিমবঙ্গে চরম সাংবিধানিক সংকট
নির্বাচনে পরাজয় সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট লুটের অভিযোগ তুলে তার এই অনড় অবস্থানের কারণে রাজ্যে নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে।
টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার পর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে পরাজিত হলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনে নজিরবিহীন কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিতে অস্বীকৃতি জানান। মমতার এই অনড় অবস্থানের ফলে রাজ্যে এক ভয়াবহ সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে।
‘আমি হারিনি, পদত্যাগ করব না’
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, তিনি পরাজয় মেনে নিচ্ছেন না। তিনি বলেন, “আমি হারিনি, তাই রাজভবনে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। বিজেপি লুটপাটের মাধ্যমে অন্তত ১০০টি আসন চুরি করেছে। এটি নির্বাচন নয়, এটি ‘লুট, লুট এবং লুট’।” নিজ আসন ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজয়কেও তিনি ‘কারচুপি’ হিসেবে অভিহিত করেন।
শারীরিক হেনস্তা ও কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ
মমতা অভিযোগ করেন, ভোট গণনাকালে তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “গণনা কেন্দ্রে সিসিটিভি বন্ধ করে আমার পেটে ও পিঠে লাথি মারা হয়েছে। একজন নারী হিসেবে আমার সঙ্গে অভব্য আচরণ করা হয়েছে।” তিনি আরও দাবি করেন, তৃণমূলের আসল লড়াই বিজেপির সাথে ছিল না, ছিল নির্বাচন কমিশনের সাথে। কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনী যোগসাজশ করে বাংলা থেকে জনমত চুরি করেছে।
মমতার পাশে রাহুল গান্ধী
রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের ঘোর বিরোধী হলেও এই সংকটে মমতার পাশে দাঁড়িয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) বিজেপিকে ‘ভোট চোর’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “আসাম ও বাংলার জনমত চুরি করা ভারতীয় গণতন্ত্র ধ্বংসের পথে বিজেপির বড় পদক্ষেপ। এটি ক্ষুদ্র রাজনীতি নয়, বরং ভারতের স্বার্থে দেখা উচিত।”
পরবর্তী করণীয় ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট
মমতার পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও আইনি বিশ্লেষক সূত্র বলছে, বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ আগামী ৭ মে শেষ হতে যাচ্ছে। এর আগেই যদি বিজয়ী দল (বিজেপি) সরকার গঠনের দাবি জানায় এবং রাজ্যপাল আর এন রবি তাদের আমন্ত্রণ জানান, তবে মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ না করলেও নতুন সরকার শপথ নিতে পারবে।
বিজেপির হাতে এখন মাত্র দুই দিন সময় আছে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য। মমতার এই হার না মানা মনোভাব এবং রাজভবনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো ভারত।
#WestBengalPolitics #MamataBanerjee #ConstitutionalCrisis #IndiaElections2026 #RahulGandhi #BJPvsTMC #DemocracyAtStake #PressPoint


