সংসদকে বিনোদন কেন্দ্রে রূপান্তরের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে: আহমদ আবদুল কাইয়ূম
আহমদ আবদুল কাইয়ূম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, সংসদ অধিবেশন খরচ, জাতীয় সংসদ সমালোচনা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ইসলামী আন্দোলন, রাজনৈতিক সংবাদ ২০২৬
জাতীয় সংসদের অধিবেশনগুলোতে সুনির্দিষ্ট ও জনগুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা বাদ দিয়ে অপ্রাসঙ্গিক আলাপের মাধ্যমে জনগণের ট্যাক্সের টাকার চরম অপচয় করা হচ্ছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি আহমদ আবদুল কাইয়ূম। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “চলমান কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে জাতীয় সংসদকে আইনসভার পরিবর্তে একটি বিনোদন কেন্দ্রে রূপান্তরের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।”
আজ শুক্রবার (১৯ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সাংগঠনিক বিবৃতিতে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে আহমদ আবদুল কাইয়ূম দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “এ দেশের সাধারণ মানুষ মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, নিজের জীবনের মায়া তুচ্ছ করে দিনরাত কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে। আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা স্বজনদের কাছ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে থেকে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স দেশে পাঠান। সেই মেহনতি মানুষের টাকার ওপর ট্যাক্স বা কর নিয়ে রাষ্ট্রের সামগ্রিক শাসন ও পরিচালনা ব্যবস্থা সচল থাকে। অথচ জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরুর পর থেকে সেখানে জনগণের মৌলিক সংকট নিয়ে কথা না বলে, অযথা ও অনর্থক আলাপের মাধ্যমে জনগণের সেই কষ্টার্জিত টাকার অপচয় করা হচ্ছে।”
‘সংসদ অধিবেশনে প্রতি মিনিটে খরচ ৩ লাখ টাকা’
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্যে সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেন, “সংসদ সদস্যদের সব সময় মনে রাখা উচিত যে, সংসদ অধিবেশন চলাকালে প্রতি মিনিটে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়। রাষ্ট্রের এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ দেশের মানুষ আপনাদের কাছে আমানত হিসেবে গচ্ছিত রেখেছে। সাধারণ মানুষের এই পবিত্র আমানতের খেয়ানত করে আপনারা জনগণের অভিশাপ ও ক্ষোভ অর্জন করছেন কি-না, তা একবারও ভেবে দেখছেন?”
তিনি আরও বলেন, “আমরা দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে জাতীয় সংসদকে একটি কার্যকর ও সার্বভৌম আইনসভা হিসেবে দেখতে চাই। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, অধিবেশনে প্রতিনিয়ত অপ্রাসঙ্গিক ও রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুড়ির আলোচনার কারণে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট মূল প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো আড়ালে চলে যাচ্ছে।”
বিবৃতির শেষাংশে ইসলামী আন্দোলনের এই শীর্ষ নেতা দেশের সংসদীয় মর্যাদা ফিরিয়ে আনা এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে জাতীয় সংসদের নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর জরুরি ও কার্যকরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


