বরিশালে ঘরের এসির ভেতর থেকে ৪টি জ্যান্ত সাপ উদ্ধার
বরিশালের একটি বাসার এসির ইনডোর ইউনিট থেকে ৪টি জ্যান্ত সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ অভিযানের পর সাপগুলোকে বন বিভাগের সহায়তায় বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়।
বরিশালে একটি আবাসিক বাসার শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) ইনডোর ইউনিট থেকে চারটি বিষধর কালনাগিনী সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ সময়ের একটি শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে সাপগুলোকে জীবিত উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে এসির আউটডোর ইউনিটে থাকা আরও একটি সাপকে শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের কর্ণকাঠি গ্রামের বাসিন্দা জীবুল হক সেন্টুর বাড়িতে এ উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী ও পরিবেশবাদী সংগঠন ‘এনিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী’র সদস্যরা এই সফল অভিযান পরিচালনা করেন।
সামাজিক বন বিভাগের বরিশাল সদর রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া দুই জোড়া কালনাগিনী সাপ বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। প্রয়োজনীয় আইনি ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়া শেষে আজ রোববার (২৮ জুন) সকালে সাপগুলোকে একটি নিরাপদ ও গভীর বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়েছে।
যেভাবে এসির ভেতর মিলল সাপ:
বাড়ির মালিক জীবুল হক সেন্টু ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, গত শুক্রবার রাতে তিনি তাঁর শোবার ঘরের এসির নিচের অংশে হঠাৎ একটি সাপের লেজ ঝুলতে দেখেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি আতঙ্কিত না হয়ে পরিবারের সব সদস্যকে সতর্ক করেন এবং ওই কক্ষে সবার প্রবেশ বন্ধ করে দেন। পরে শনিবার সকালে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন করলে, সেখান থেকে তাঁকে বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংগঠন ‘এনিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী’র সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়। ৯৯৯ থেকে নম্বর পেয়ে তিনি সংগঠনের সাথে যোগাযোগ করলে শনিবার বিকেলে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা সরঞ্জামসহ তাঁর বাড়িতে পৌঁছান।
দীর্ঘ অভিযান ও বিশেষজ্ঞদের মত:
উদ্ধারকারী দলের নেতৃত্ব দেওয়া এনিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালীর পরিচালক আসাদুল্লাহ হাসান মুসা জানিয়েছেন, “খবর পেয়ে আমাদের টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর এসির ইনডোর কেটে একে একে ৪টি কালনাগিনী সাপ জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে পাইপের ভেতরে এসির আউটডোর ইউনিটে থাকা আরও একটি সাপকে ধরা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার করা সাপগুলো পরবর্তী ব্যবস্থাপনার জন্য রাতেই আমরা বন বিভাগের কাছে বুঝিয়ে দিই।”
এসির ভেতরে সাপ ঢোকার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, মূলত এসির ভেতরের উষ্ণ, অন্ধকার ও নিরাপদ পরিবেশের কারণেই সাপগুলো সেখানে ডিম পাড়া বা আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে বাসা বেঁধেছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বরিশালে এসির ভেতর সাপ পাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। চলতি জুন মাসেই বরিশাল রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি কার্যালয়ের একটি কক্ষের এসি থেকে ৪টি এবং নগরীর সাগরদী এলাকার ‘বরিশাল মেডিকেল সার্ভিসেস ক্লিনিক’-এর আরেকটি এসি থেকে ১টি কালনাগিনী সাপ উদ্ধার করেছিলেন এই একই সংগঠনের সদস্যরা। বারবার এমন ঘটনায় স্থানীয়দের এসি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা।


