বিরিয়ানি খাওয়ানোর প্রলোভনে ডেকে নিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, লোহাগড়ায় ২ যুবক গ্রেফতার
নড়াইলের লোহাগড়ায় বিরিয়ানি খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে ডেকে নিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ানোর অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনকে কেন্দ্র করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক আওয়ামী লীগ নেতা তাদের বিরিয়ানি খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে নিয়ে এসে এই স্লোগান দেওয়িয়েছিলেন।
গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের চাচই গ্রাম থেকে ওই দুই যুবককে গ্রেফতার করে লোহাগড়া থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— লোহাগড়া উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের চাচই গ্রামের বাদশা তালুকদারের ছেলে মো. মজনু তালুকদার (২৭) ও একই গ্রামের মন্টু মোল্যার ছেলে মোতায়ের মোল্যা (১৮)।
লোভ দেখিয়ে স্লোগান ও পুলিশি অ্যাকশন:
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে লোহাগড়া রেলস্টেশন এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একদল নেতাকর্মী জড়ো হয়ে গোপন বৈঠক ও কেক কাটার আয়োজন করেন। সেখানে হঠাৎ করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়। সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও স্লোগান দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে রাতেই জয়পুর ইউনিয়নের চাচই গ্রামে বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার অপরাধে মজনু ও মোতায়েরকে গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, লোহাগড়া উপজেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন এই দুই সাধারণ যুবককে বিরিয়ানি খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে রেলস্টেশন এলাকায় ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সেখানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের দিয়ে জোরপূর্বক এই স্লোগান দেওয়ানো হয়। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর তা পুলিশ প্রশাসন পর্যন্ত গড়ায়।
আইনি ব্যবস্থা:
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ব্যানারে সমবেত হওয়া এবং উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টার অভিযোগে ওই দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ তাদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারী এবং প্রলোভন দেখানো আওয়ামী লীগ নেতা মো. সালাউদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


