বিমানবন্দরের বাইরে পৃথক কার্গো ভিলেজ গড়ার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তীব্র কার্গো জট নিরসনে বিমানবন্দরের বাইরে পৃথক ‘কার্গো ভিলেজ’ গড়ার তাগিদ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। কী থাকছে নতুন এই মহাপরিকল্পনায়? জানুন বিস্তারিত।

Jun 25, 2026 - 15:29
 0  2
বিমানবন্দরের বাইরে পৃথক কার্গো ভিলেজ গড়ার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর
×

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদ্যমান তীব্র কার্গো জট নিরসনে স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও (শুক্রবার ও শনিবার) কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট সব ধরনের সেবা কার্যক্রম পূর্ণ মাত্রায় চালু রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, “ছুটির দিনগুলোতে কার্যক্রম সীমিত থাকায় বিমানবন্দরে জমে থাকা কার্গোর পরিমাণ কমছে না। স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে ওঠার আগ পর্যন্ত ছুটির দিনেও পুরোদমে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স চালু রাখা জরুরি।”

​বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উৎসাহিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় ইইউ উত্থাপিত ‘নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার’ বিষয়ক সমস্যাসমূহের মধ্যে বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং সংকট ও এর দ্রুত টেকসই সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

১০ বছরের চাহিদা মাথায় রেখে পৃথক কার্গো ভিলেজ:

​বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “বিমানবন্দর কোনো দীর্ঘমেয়াদি স্টোরেজ বা গুদামজাতকরণের স্থান নয়; এটি মূলত পণ্য আগমন ও বহির্গমনের একটি ট্রানজিট পয়েন্ট। কিন্তু বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতায় দীর্ঘ সময় ধরে কার্গো বিমানবন্দরে অবস্থান করায় তীব্র সংকট তৈরি হচ্ছে। এ কারণে বিমানবন্দরের বাইরে নিরাপদ ও আধুনিক সংরক্ষণ সুবিধাসহ একটি পৃথক ‘কার্গো ভিলেজ’ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।”

​তিনি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার তাগিদ দিয়ে বলেন, “আমাদের আগামী ১০ বছরের বৈশ্বিক চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। কার্গোর ধরন অনুযায়ী হ্যাজার্ডাস (ঝুঁকিপূর্ণ), নন-হ্যাজার্ডাস, ফাস্ট-মুভিং ও স্লো-মুভিং পণ্যের জন্য পৃথক আধুনিক উইং বা ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। এতে কার্গো পরিচালনা আরও দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হবে। কারণ, বিমানবন্দরে পণ্য খালাসের অভিজ্ঞতাই বিদেশি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের প্রথম পরিচয়। সেই অভিজ্ঞতা কোনোভাবেই নেতিবাচক হতে দেওয়া যাবে না।”

​৭ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতির নির্দেশ:

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, “বিমানবন্ধরের এই কার্গো জট শুধু ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতিই করছে না, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকেও মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে। অতিরিক্ত কার্গো ঠাসাঠাসি করে রাখার কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি রয়েছে।” তিনি সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে এই জট নিরসনে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানোর আলটিমেটাম দেন।

​তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ও বাজেয়াপ্ত হওয়া পণ্যগুলোর দ্রুত আইনি নিষ্পত্তি করতে হবে এবং বিকল্প সংরক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্গোর মূল চাপ কমাতে হবে। এ সময় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “সমস্যা থাকলে আলোচনার টেবিলে বসুন, হুমকি বা কর্মবিরতির পথে যাবেন না। বর্তমান সরকার ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়ন ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সুরক্ষায় কাজ করছে।”

স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা:

​সভায় উপস্থিত অংশীজনরা জানান, বর্তমানে প্রতিদিন যত পরিমাণ নতুন কার্গো বিমানবন্দরে আসছে, প্রায় একই পরিমাণ পণ্য খালাস হচ্ছে। কিন্তু কাস্টমসের ধীরগতি ও ছুটির দিনের স্থবিরতার কারণে আগে থেকে জমে থাকা ব্যাকলগ বা কার্গোর স্তূপ উল্লেখযোগ্য হারে কমানো যাচ্ছে না।

​বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের সভায় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন, কার্গো অপারেটর এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সমস্যা সমাধানে আগামী সপ্তাহে আবারও বৈঠক করে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়।