যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজ্জায় গণহত্যা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী

গত অক্টোবর মাসে ঘোষিত ‘যুদ্ধবিরতি’ তোয়াক্কা না করেই ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজ্জা উপত্যকায় অনবরত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। সবশেষ ৪৮ ঘণ্টায় আরও ৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

Jun 25, 2026 - 12:27
 0  3
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজ্জায় গণহত্যা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী
×

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গত অক্টোবর মাসে ঘোষিত ও কার্যকর হওয়া ‘যুদ্ধবিরতি’র তোয়াক্কা না করেই ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজ্জা উপত্যকায় অনবরত গণহত্যা ও নৃশংস বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী।

​সবশেষ গত ৪৮ ঘণ্টায় গাজ্জার বিভিন্ন এলাকায় চালানো ইসরাইলি বর্বর হামলায় অন্তত ৫ জন ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই সময়ে দখলদারদের ছোঁড়া বোমা ও গোলার আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ৪৩ জন।

​কাতারের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা আজ শনিবার (২০ জুন) গাজ্জার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অবরুদ্ধ স্বাস্থ্য দপ্তরের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

যুদ্ধবিরতির আড়ালে ১ হাজার ১২ জনের মৃত্যু:

গাজ্জা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত দৈনিক পরিসংখ্যান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মহলের মধ্যস্থতায় গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত একদিনের জন্যও গাজ্জায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর আগ্রাসন ও চোরাগোপ্তা হামলা থামেনি।

​অত্যন্ত উদ্বেগজনক তথ্য হলো, তথাকথিত এই ‘যুদ্ধবিরতি’ চলাকালীন সময়েই ইসরাইলি বাহিনীর ছটফটানি ও অতর্কিত হামলায় গাজ্জায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১২ জন ফিলিস্তিনির নির্মম মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশই নারী ও শিশু। এ ছাড়া এই একই সময়ে ইসরাইলি বুটের তলায় ও বোমায় পিষ্ট হয়ে আহত হয়েছেন আরও ৩ হাজার ২০৮ জন ফিলিস্তিনি।

আহতদের চিকিৎসায় চরম সংকট:

স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নতুন করে আহত ৪৩ জনকে গাজ্জার আংশিক সচল থাকা হাসপাতালগুলোতে নেওয়া হলেও সেখানে তীব্র ওষুধ সংকট এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে তাদের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কিন্তু ইসরাইলি ড্রোন ও কামানের গোলার ভয়ে উদ্ধারকারীরা সেখানে পৌঁছাতে পারছেন না।

​বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরতির ডাক ও ইসরাইলের ওপর আন্তর্জাতিক আদালতের চাপ থাকা সত্ত্বেও, নেতানিয়াহু সরকারের এই ক্রমাগত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নির্বিচার হত্যাকাণ্ড গাজ্জার মানবিক বিপর্যয়কে প্রতিনিয়ত আরও ঘনীভূত করে তুলছে।