চীনে বাংলাদেশের প্রথম ‘বিনিয়োগ কার্যালয়’ খোলার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর, ১৫ দিনেই মিলবে লাইসেন্স
বেইজিংয়ে ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’ সম্মেলনে চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে ভ্যালুচেইন সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে ১৫ দিনে লাইসেন্স দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
চীনের সঙ্গে আরও সুদৃঢ় ও গভীর শিল্প অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে তাদের ভ্যালুচেইন (মূল্য সংযোজন শৃঙ্খল) সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে চীনা ব্যবসায়ীদের দোরগোড়ায় দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে আরও সহজ করতে অচিরেই চীনে বাংলাদেশের প্রথম ‘বিনিয়োগ কার্যালয়’ (Investment Office) খোলার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে) বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই হোয়াইট হাউসে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত এই বিশেষ সম্মেলনে বাংলাদেশের বিনিয়োগের বিশাল সুযোগ-সুবিধা ও কৌশলগত গুরুত্ব নিয়ে চীনা ব্যবসায়ীদের সামনে একটি বিশেষ উপস্থাপনা তুলে ধরেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। সম্মেলনে চীনের শীর্ষস্থানীয় ১২৫ জন বৃহৎ ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি অংশ নেন।
১৫ দিনেই মিলবে ব্যবসার লাইসেন্স:
সম্মেলনে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক ব্যবসার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও উন্মুক্ত। ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা আমাদের অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে আধুনিকায়ন করছি। বাংলাদেশে বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রধান বাধা তথা আমলাতান্ত্রিক জড়তা দূর করতে আমাদের সরকার ইতিমধ্যেই একটি কঠোর ‘১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা’ (180-day Action Plan) বাস্তবায়ন শুরু করেছে।”
তিনি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, “নীতিমালার এই যুগান্তকারী সংস্কারের ফলে এখন থেকে বাংলাদেশে কোনো নতুন ব্যবসা বা শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু করতে চাইলে আবেদন করার মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে সব ধরনের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স অনুমোদন করা হবে।”
সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন ও নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল:
প্রধানমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক পুঁজি প্রবাহ ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত কার্যপ্রণালি ঢেলে সাজাতে তাঁর সরকার বদ্ধপরিকর। এর মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ব্যাপকভাবে হ্রাস, সরকারি সকল সেবার পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন, কর কাঠামোর আধুনিকায়ন, দীর্ঘমেয়াদী নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক মানের একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে সরকারপ্রধান আরও জানান, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল’ (Chinese Economic and Industrial Zone) এবং মোংলায় দ্বিতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এসব অঞ্চলে চীনা বিনিয়োগকারীরা শতভাগ আইনি সুরক্ষাসহ বিশেষ কর সুবিধা পাবেন।
বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বেইজিংয়ের এই সম্মেলন থেকে চীনের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে এসে সরেজমিনে নতুন ও উদীয়মান খাতগুলো পরিদর্শন করার এবং বাংলাদেশের এই রূপান্তরের অংশীদার হওয়ার আন্তরিক আমন্ত্রণ জানান।


