চট্টগ্রামে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সড়কে মাছ ফেলে জেলেদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

চট্টগ্রাম নগরীর রানী রাসমনি ঘাটে খাস কালেকশনের নামে অতিরিক্ত ও অবৈধ অর্থ আদায়ের প্রতিবাদে টোল রোডে সড়কে মাছ, বরফ ও গ্যাস সিলিন্ডার রেখে প্রতীকী প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করেছেন ক্ষুব্ধ জেলেরা।

Jun 24, 2026 - 21:32
 0  5
চট্টগ্রামে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সড়কে মাছ ফেলে জেলেদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
×

খাস কালেকশনের নামে অতিরিক্ত ও অবৈধ অর্থ আদায়ের প্রতিবাদ এবং ঘাটে চলমান বেপরোয়া চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে সড়কে মাছ ঢেলে অভিনব মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন চট্টগ্রাম নগরীর রানী রাসমনি ঘাটের জেলেরা।

​আজ বুধবার (২৪ জুন) সকালের দিকে নগরীর পাহাড়তলী থানাধীন ঘাট সংলগ্ন টোল রোডে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়।

​বিক্ষোভের একপর্যায়ে জেলেরা টোল রোডের ওপর ইলিশসহ বিভিন্ন তাজা মাছ, বরফের চাঁই এবং গ্যাস সিলিন্ডার সারিবদ্ধভাবে রেখে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। এই কর্মসূচিতে রাসমনি ঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলে সম্প্রদায়ের শতাধিক সদস্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

ব্যবসায় ধস ও জেলেদের অভিযোগ:

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাধারণ জেলেরা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই ঘাটে মাছ অবতরণ, সাগরে যাওয়ার নৌকা ভেড়ানো, জাল, রশি, বরফ, রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার এবং মৎস্য ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি অনুষঙ্গের ওপর একটি বিশেষ মহল জোরপূর্বক অবৈধভাবে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করছে।

​তাদের দাবি, সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে ‘খাস কালেকশন’ বা ইজারার নামে যেভাবে যত্রতত্র অর্থ আদায় করা হচ্ছে, তাতে জেলে ও সাধারণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরমভাবে আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে অতিরিক্ত খাজনা দেওয়ার কারণে তাদের ব্যবসায়িক খরচ দ্বিগুণ বেড়ে গেছে, যার ফলে পরিবার নিয়ে টিকে থাকাই এখন দায় হয়ে পড়েছে।

​"ফিশারিঘাটেও খাজনা নেই, এখানে কেন?"

রাসমনি ইলিশ ঘাটের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “১৯৯৫ সাল থেকে আমি নিজে এই ঘাটে ব্যবসা করছি। এর আগে আমাদের বাপ-দাদারাও এখানে বংশপরম্পরায় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। তাদের মুখেও কখনো শুনিনি যে সাগরের ঘাটে মাছ নামাতে বা জাল শুকাতে খাজনা দিতে হয়। অথচ এখন একটি চক্র নতুন করে সবকিছুর ওপর খাজনা দাবি করছে।”

​তিনি আরও বলেন, “চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি মাছের আড়ত নতুন ফিশারিঘাটেও এই ধরনের কোনো খাস কালেকশন নেই। কিন্তু এখানে পানি, বরফ, মাছ, এমনকি ঘাটের ছোট চায়ের দোকান থেকেও নাকি তাদের দৈনিক চাঁদা দিতে হবে! আমরা এই জুলুমের স্থায়ী অবসান এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টির একটি সুষ্ঠু ও আইনি সমাধান চাই।”

​বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে জেলেরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে ঘাটে সব ধরনের অবৈধ চাঁদা আদায় বন্ধ করা না হলে তারা মাছ ধরা বন্ধ রেখে আরও বৃহত্তর ও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন।