কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে প্রেমিকার ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল যুবকের
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিয়ের দাবিতে এসে কিশোরী প্রেমিকার ছুরিকাঘাতে সাইয়েদ আবদুল্লাহ সিয়াম (২০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় প্রেমিকাসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কিশোরী প্রেমিকার ছুরিকাঘাতে সাইয়েদ আবদুল্লাহ সিয়াম (২০) নামের এক তরুণ নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার (২৯ জুন) সকালে চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকার লক্ষ্মীপুর গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত সিয়াম লক্ষ্মীপুর গ্রামের হাজী এনামুল হকের ছেলে। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে অভিযুক্ত প্রেমিকা নাইমা জাহান এবং নিহতের বন্ধু আরিয়ান খান মাহিদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল ফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে নাইমা জাহানের সঙ্গে সিয়ামের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাদের সম্পর্ক গভীর হয়। সম্প্রতি ওষুধ সেবন করে নাইমার তিন মাসের গর্ভের ভ্রূণ নষ্ট করেন সিয়াম। এরপর থেকে নাইমা বিয়ের জন্য চাপ দিলে সিয়াম টালবাহানা শুরু করেন।
এরই মধ্যে সিয়াম তাকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাড়িতে আসার জন্য চাপ দেন। টাকা জোগাড় করতে না পারলেও গত রোববার রাতে সিয়ামের পুরনো বাড়িতে আসেন নাইমা। সেখানে একটি কক্ষে সিয়াম, নাইমা ও সিয়ামের বন্ধু আরিয়ান এক সাথে রাত্রীযাপন করেন।
আজ ভোরে সিয়াম প্রেমিকা নাইমাকে বাসা থেকে চলে যাওয়ার জন্য বললে দুজনের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ঘরে থাকা ছুরি দিয়ে সিয়ামের পেটে আঘাত করেন নাইমা। সিয়ামের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল থেকেই অভিযুক্ত প্রেমিকা নাইমা জাহান ও বন্ধু আরিয়ানকে গ্রেফতার করে।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসাইন জানান, "অভিযুক্ত নাইমা জাহানকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরিটিও উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে তারা দুজন প্রেমিক-প্রেমিকা ছিলেন। ঘটনার আদ্যোপান্ত জানতে পুলিশি তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।"


