দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাবির শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাবির ঐতিহাসিক নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। বিস্তারিত জানুন।

Jul 1, 2026 - 10:11
 0  1
দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাবির শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
×

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের প্রতিটি গৌরবময় ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সম্মুখসারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস' উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

​উল্লেখ্য, আজ ১ জুলাই (বুধবার) প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

​বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক ও বর্তমান সদস্যসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।”

গণতন্ত্র সুসংহতকরণ ও এবারের প্রতিপাদ্য:

​প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশে উচ্চশিক্ষার প্রসার, জ্ঞানচর্চা ও উচ্চতর গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাবির হাজারো সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীকে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে হয়েছে।

​তিনি বলেন, “অনেক ত্যাগ, দীর্ঘ সংগ্রাম ও রক্তের বিনিময়ে আমরা দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। এবার আমাদের দায়িত্ব হলো এই অর্জিত গণতন্ত্রকে সুসংহত করা। এই লক্ষ্য অর্জনেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনন্য ভূমিকা রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য—‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে বলে আমি মনে করি।”

চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও শিক্ষা কারিকুলাম আধুনিকায়ন:

​চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও অটোমেশনের যুগে প্রচলিত শিক্ষা কারিকুলামকে আধুনিক ও বৈশ্বিক মানসম্পন্ন করার কোনো বিকল্প নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে হবে।

​প্রযুক্তিগত বিপ্লব মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল এন্টারপ্রেনারশিপ, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানোটেকনোলজি এবং ফাইভ-জি (5G) প্রযুক্তির মতো আধুনিক বিষয়গুলো শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার তাগিদ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, শিক্ষাকে শুধু সার্টিফিকেটনির্ভর না রেখে প্রায়োগিক ও কর্মদক্ষতার ওপর জোর দিতে হবে এবং মেধা ও একাডেমিক যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি গবেষণার সংস্কৃতি জোরদার করতে হবে।

বহুমাত্রিক শিক্ষা কাঠামো ও উদ্যোক্তা তৈরি:

​প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অ্যালামনাইদের শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ব্রিটেনসহ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো ঢাবির প্রতিষ্ঠিত সাবেক শিক্ষার্থীরাও যেন গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষকতা করতে এগিয়ে আসেন।

​একই সাথে তিনি সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সৃজনশীল চর্চাকে শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে একটি বহুমাত্রিক শিক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। বৈশ্বিক কর্মবাজারে টিকে থাকতে শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি একটি তৃতীয় ভাষায় পারদর্শী হওয়া, নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হওয়া এবং মানসিক স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। সবশেষে তিনি বলেন, ক্যাম্পাস থেকেই তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।