ইউক্রেনে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৮

ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার নতুন করে চালানো ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত আটজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও ৩৫ জন আহত হয়েছেন। এই হামলায় ৮টি অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

Jun 29, 2026 - 22:18
 0  2
ইউক্রেনে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৮
×

ইউক্রেনজুড়ে নতুন করে এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এই রক্তক্ষয়ী হামলায় এক শিশুসহ অন্তত আটজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও ৩৫ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৯ জুন) চালানো এই হামলাকে ‘ভয়াবহ ও কাপুরুষোচিত আক্রমণ’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

​জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চার বছরেরও বেশি সময় আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বাত্মক আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে ক্রেমলিনের এই কৌশলগত বোমাবর্ষণে এ পর্যন্ত ১৬ হাজারেরও বেশি নিরপরাধ ইউক্রেনীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।

আঞ্চলিক ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ:

ইউক্রেনীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সোমবার দেশের মধ্যাঞ্চলীয় শহর দিনিপ্রোর (Dnipro) একটি গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে পাঁচজন নিহত এবং ২৯ জন আহত হন।

​এ ছাড়া দক্ষিণের যুদ্ধবিধ্বস্ত জাপোরিঝঝিয়াতে (Zaporizhzhia) একটি যাত্রীবাহী মিনিবাসে রুশ ড্রোন হামলায় এক শিশুসহ তিনজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সুমি (Sumy) অঞ্চলে ড্রোন হামলায় এক বৃদ্ধ ও এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় পুলিশ।

তীব্র গরমে বিদ্যুৎ গ্রিড বিপর্যস্ত:

তীব্র গরমের কারণে ইউক্রেনীয়রা এসি ব্যবহার করায় এমনিতেই বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছিল। তার ওপর এই রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দেশটির অন্তত আটটি অঞ্চলে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ বিপর্যয় (Blackout) দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের গ্রিড অপারেটর ‘উক্রেনেরগো’। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপের কাছে দ্রুত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী উন্নত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সরবরাহের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন জেলেনস্কি।

ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাতে রাশিয়ায় তীব্র জ্বালানি সংকট:

এদিকে, পশ্চিমা সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুদ্ধের গতিপ্রকৃতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইউক্রেনের ক্রমবর্ধমান ও নিখুঁত ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়া এবং রুশ-অধিকৃত অঞ্চলগুলোতে তীব্র জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে।

​রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিজেই রোববার (২৭ জুন) স্বীকার করেছেন যে, রাশিয়ার বড় বড় তেল শোধনাগারগুলোতে (Oil Refineries) ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন হামলার কারণে দেশটিতে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে এবং পেট্রোল পাম্পগুলোতে মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। ড্রোন প্রযুক্তিতে ইউক্রেনের এই উদ্ভাবনী দক্ষতা তাদের সামরিক ক্ষেত্রে বিশ্বনেতায় পরিণত করেছে। পূর্বে যেখানে ইউক্রেনকে সহায়তার জন্য আবেদন করতে হতো, এখন তারা অংশীদার পশ্চিমা দেশগুলোকে এই প্রযুক্তিতে সহায়তা করছে।

ছাড় দিতে নারাজ পুতিন:

জ্বালানি সংকট এবং যুদ্ধক্ষেত্রের সাময়িক বিপর্যয় সত্ত্বেও আগ্রাসন বন্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত রাশিয়ারই জয় হবে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, ইউক্রেন বিষয়ে রাশিয়ার অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

​তবে ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক ‘ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার’ (ISW) জানিয়েছে, ২০২৬ সালে এসে যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার কার্যকারিতা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে এবং সামরিকভাবে তাদের লক্ষ্য অর্জনের সক্ষমতা এখন চরম প্রশ্নের মুখে।

​সর্বশেষ আকাশযুদ্ধের খতিয়ান দিয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা গত ২৪ ঘণ্টায় ২০৯টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়ার উৎক্ষেপণ করা ১০৮টি ড্রোনের মধ্যে ৮২টি ড্রোন তারা মাঝআকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।